ফেসবুকে সবচেয়ে বড় ভুলটি সাধারণ ব্যবহারকারীরা করে থাকেন?

ফেইসবুকে একজন ব্যবহারকারি যে সকল ভূল করে তার কিচ্ছু সাধারন আবার কিচ্ছু মারাত্নক ভূল হিসেবে গণ্য করা যায। তবে একটা বিষয় আমরা ভূলে যাই, যা কিনা আমরা মানতে চাই না। সোসিয়াল মিডিয়ায় অব্যশই আমরা আমাদের সুখ-দু:খের বিষয় গুলো শেয়ার করবো, কিন্তু সেটা একটা সীমার মধ্যে থেকে, প্রায়ই দেখা যায়, আমরা আমদের পারিবারিক বা ব্যাক্তিগত বিষয় গুলো এতটা আবেগ আর অস্বতি দিয়ে প্রকাশ করি যা কিনা অপরিচিত কারো কাছে সেটা আমাদের দুবলতা প্রকাশ করে। এতে শুধু আমাদের দুবলতাই প্রকাশ পায় না, বরং অনেক সময় বিপদের কারন ও হয়ে দাড়ায়।

অনেক সময় নতুন বা অপরিচিত কাউকে বন্ধু বানানোর পর তার সাথে ব্যাক্তিগত তথ্য শেয়ার করা, নিজের পাসওয়াড, মেইল, ফোন নাম্বার, এড্রেস ইত্যাদি শেয়ার করা।

ব্যাক্তিগত ছাড়াও অনেক এ ব্যবসায়িক লেনদেন করে থাকেন, কোন রকম যাচাই-বাচাই ছাড়া, যা কিনা মারাত্বক ভূল।

আমরা যে সোষিয়াল মিডিয়াই ব্যবহার করি না কেন, আমাদের উচিত সতক থাকা।

সিফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদা

সেফুদা নামের এক মাতাল পবিত্র কুরআন কে অপমান করে ভিডিও বানিয়েছে, আর কিছু অবুঝ মুসলিম সেটা শেয়ার করে, লাইক কমেন্ট করে সেফুদার স্বপ্ন পূরন করতেছে। 

ধরুন কেউ যদি আপনার বাবাকে অপমান করে মুখে চুল কালি লাগিয়ে ভিডিও করে ফেসবুকে ছাড়ে তাহলে আপনি কি করবেন? ভিডিও টি কিভাবে ডিলিট করা যায় সেটা করবেন নাকি শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের দেখার ব্যবস্থা করে দেবেন? কেউ যদি আপনার বোনের ওড়না নিয়ে টানাটানি করে ভিডিও করে অনলাইনে ছাড়ে আপনি কি করবেন? ভিডিও টি কিভাবে ডিলিট করা যায় সেটা করবেন নাকি শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের দেখার ব্যবস্থা করে দেবেন? 

ইসলামবিরোধীরা এসব করেই তো প্রচার পাবার আশায়। আপনি আবেগের বশে তার ইচ্ছা পূরন করে তাকে ফেমাস করে তুলছেন। 

আপনি তার ভিডিওতে রিপোর্ট করতে পারেন যেন ফেসবুক ভিডিও ডিলিট করে দেয় অথবা সে যে দেশে থাকে সেদেশের পুলিশকে কমপ্লেইন করতে পারেন যেন তাকে বিচারের আওতায় আনা যায়। 

শুধু আবেগ দিয়ে নয়, আবেগ, বিবেক ও বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে ইসলামকে ভালবাসুন।

স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে রুট (Root) করা কি জিনিস?

রুট কথাটা সাধারণত এন্ড্রয়েড এর সাথে জড়িত। iOS এ একে জেল-ব্রেক বলা হয়ে থাকে। দেখতে গেলে দুটি মূলত একই জিনিস। এন্ড্রয়েড যদিও বা, iPhone এর মতন জেলে বসবাস করে না, তবুও, রুটিং আপনাকে সেটুকু থেকেও মুক্ত হতে সাহায্য করতে পারে।

রুট করা মানে কি জানতে হলে, প্রথমে আমরা জেনে নেব রুটের অস্তিত্বের কারণ আর এটি ঠিক কিভাবে কাজ করে। কারণ এন্ড্রয়েড হলো একটি অনুমতি-ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম – ঠিক লিনাক্স-এর মতন, সঠিকভাবে বলতে গেলে। এন্ড্রয়েডের প্রতিটা ফাইল, প্রতিটা ফোল্ডার, প্রতিটা পার্টিশন-এর নিজস্ব এক গুচ্ছ পারমিশন (বা, অনুমতি) আছে। এবং এই অনুমতিগুলোই ঠিক করে, কে একটি ফাইল পড়তে পারবে, কে একটি ফাইলে পরিবর্তন করতে পারবে এবং কে একটি ফাইল চালাতে ( বা, রান করতে) পারবে। এই জিনিসটি করা হয় ব্যবহারকারীর কাছে অনুমতি কি কি আছে, তার ওপর ভিত্তি করে।

আপনি যখন আপনার ফোনটি চালু করে প্রথমবার প্রোফাইল বানাচ্ছেন, আপনাকে এন্ড্রয়েড দেয় একটি অনন্য UserID। সেরকম এ প্রত্যেকটা এপ্লিকেশন যখন ইনস্টল হয়, তখন প্রত্যেকটি একটি করে অনন্য UserID পেয়ে যায়। এই UserID র ওপর ভিত্তি করেই এন্ড্রয়েড ঠিক করে কার কতটা অনুমতি প্রাপ্য। এক্ষেত্রে আপনার userID টিকেই সবচাইতে বেশি অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু ভেবে বসবেন না, আপনার মাথার ওপর কেউ নেই। আপনার মাথার ওপর রয়েছেন SuperUser বা SU যেটিকে “/” ভাবেও লেখা হয়ে থাকে। SuperUser সবার মাথা, সে সব করতে পারে – এমন এমন জিনিস যেগুলো মোবাইল নির্মাতারা আপনার থেকে লুকিয়ে রেখেছে সেগুলোও সে দেখতে পারে। লুকিয়ে রাখার অবশ্য কারণ ও আছে। একটু ভুল চুক হলেই, মুহূর্তের মধ্যে আপনার ফোন অকেজো হয়ে যেতে পারে। তবে বুঝে শুনে ব্যবহার করতে পারলে, সেই মুক্তির তুলনা হয়না।

এই SuperUser টিকে সযত্নে লুকিয়ে রাখে নির্মাতারা। রুটিং হলো জোর করে আপনার সাধারণ UserID টি বদলে, আপনাকেই SuperUser বানানো। আপনিই তখন আপনার ফোনের সর্বেসর্বা।

এবার আসা যাক সুবিধা গুলোতে –

  • সব চাইতে প্রথম, আপনার ফোন থেকে অযথা বাজে appগুলো, যাকে Bloatware বলা হয় এবং যেগুলি মোছা অবধি যায় না, সেগুলো মুছে ফেলতে পারবেন সহজেই।
  • নিজের মতন করে আপনি আপনার ফোনটিকে customize করতে পারেন, যা সাধারণত রুট করার আগে সম্ভব হতো না।
  • রুট সংক্রান্ত অনেক এমন app আপনি হাতে পেয়ে যাবেন, যেগুলো আপনার কাছে এমন সব সুবিধা নিয়ে আসবে, যা সাধারণত কোনোদিন আপনি পেতেন না।
  • আপনি জেমন আপনার system নিজের ইচ্ছে মতন update করতে পারবেন, আবার পুরো system টা মুছে ফেলে, সম্পূর্ণ নতুন কোনো অপারেটিং সিস্টেম লাগিয়ে ফেলতে পারেন আপনি আপনার ফোনে। এইগুলি কেই বলা হয় কাস্টম ROM। আপনার ফোনের সাথে আসা সিস্টেম কে বলা হয় Stock ROM।

এবার কিছু ভয়ঙ্কর রকমের অসুবিধা গুলি দেখা যাক:

  • রুট করা মানে, প্রায় সব ফোনেরই Warrenty ওখানেই শেষ। নির্মাতা আর আপনার ফোন ছুঁয়েও দেখবে না।
  • রুট করা মানে আপনার ফোনে যে নিজেথেকে Update গুলি আসতো, তা আর আসবে না। আপনার ফোনের দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনার। security patch থেকে system update সব আপনাকে নিজে হাতে করতে হবে। SuperUser হয়েছেন, এইটুকু কাজ তো করতেই হবে।
  • রুট করার পর ভুল ভাল কিছু করে ফেললেই ফোনটি যাবে অকেজো হয়ে, অথবা এমন কিছু কান্ড হবে, যার দরুন আপনার ফোনটিকে ব্যবহার করা অসাধ্য হয়ে যাবে। তখন আবার আপনাকে সব কেঁচে গন্দুস করে, নতুন করে সিস্টেম লাগিয়ে শুরু করতে হবে।

রুটিং নিয়ে অনেক কথাই চলে আসে আলোচনার মধ্যে। তবে একটা কথা বলা যায়। আজকাল এন্ড্রয়েড এতটাই উন্নত হয়ে গিয়েছে, যা রুটিং না করলেও আরাম করে ব্যবহার করা যায়। রুটিং করতেই হলে, এমন কোনো ফোনে করুন, যেটি আপনার প্রাথমিক ফোন নয়।

বাংলাদেশের ছাত্ররা বিদেশে গিয়ে অনেক ভালো করে কেন?

আমাদের দেশ থেকে যারা বিদেশে লেখাপড়া করতে যায়, অধিকাংশই স্নাতকোত্তর লেখাপড়া করে এবং পশ্চিমা দেশগুলোয় যায়। আমি নিজে কানাডায় স্নাতকোত্তর পড়ালেখা করেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকে উত্তর দিচ্ছি। বিদেশে আমাদের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ভালো করার প্রধান কারণ হলো বিদেশে গেলে বাধ্য হয়ে দায়িত্বশীল ও স্বাবলম্বী হতে হয়। এর ফলে লেখাপড়ায় অবহেলা করা থামে। অন্যভাবে বলতে গেলে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ায় ভালো করার মতো পরিবেশ থাকে। এই পরিবেশে পড়ে আমাদের দেশ থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করতে পারে।

একজন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীর জন্য বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে লেখাপড়া ভালো পরিবেশ দিচ্ছে সেটা বুঝতে হলে প্রথমে তাদের জীবনযাত্রা এবং সংস্কৃতির একটা বিশেষ দিকে ভালো করে বুঝতে হবে। দায়িত্বশীলতা ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য। পশ্চিমা দেশগুলার জীবনযাত্রা প্রণালির দিকে লক্ষ্য করলে দেখবেন সতেরো-আঠারো বছর বয়স থেকেই গড়পড়তা একজন ব্যক্তিকে অনেক দায়িত্বশীল হতে হয়। বিশেষ করে আর্থিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার একটা চাপ থাকে। যাদের বাবা-মায়ের অনেক সম্পদ আছে তাদের কথা আলাদা। কিন্তু সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের সবার বাস্তবতাই প্রায় এরকম। বিরাট বিপদে না পড়লে বাবা-মা সরাসরি আর্থিক সাহায্য করে না। অনেকেই নিজে কাজ করে ঘরের ভাড়া দেয়, নিজের দৈনন্দিন জীবনের খরচ মেটায়। বেশিরভাগ উন্নত দেশেই সরকার থেকে আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা থাকে। কানাডায় ঋণ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ঋণের পরিমাণ এমন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ মেটানোর পর নিজের চলার জন্য সামান্যই অবশিষ্ট থাকে। তবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিনামূল্যে উচ্চতর শিক্ষার ব্যবস্থা আছে, সেখানে ছাত্রছাত্রীরা কম আর্থিক চাপে থাকে। কিন্তু সেখানেও বয়ঃপ্রাপ্তির পর থেকে অনেক দায়িত্ব নিতে হয়। আর দায়িত্ব বলতে শুধু আর্থিক দিকটাই না, এর সামাজিক দিকও আছে। এই বয়সের একজন ব্যক্তির বিভিন্নরকম সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও স্বাবলম্বী হবে বলেই মনে করা হয়। বন্ধুত্ব বা প্রেমের জন্য নিজেকেই গায়ের তেল পুড়িয়ে মানুষ খুঁজে বের করতে হয়। কে কার সাথে বন্ধুত্ব বা প্রেম করল কেউ তাতে মাথা ঘামায় না। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের প্রসঙ্গে চলে যাচ্ছি। প্রেম তো তাও স্বাভাবিক ব্যাপার; কেউ যদি চায় সারাদিন মদপান আর মাদক সেবন করবে, তাহলেও কেউ উপদেশ দিতে আসে না, “এসব করলে ক্ষতি হবে।” শুধু পুলিশ কোনোভাবে খবর পেলে এসে গ্রেফতার করবে। কেউ যদি সিদ্ধান্ত নেয় লেখাপড়া করবে না, বরং আজগুবি কোনো স্বপ্নের পিছে দৌড়ে জীবন পার করবে, তাহলেও কেউ সাবধান করতে আসে না। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের সমাজে ধরে নেওয়া হয় যে একজন ব্যক্তি যা করছে তা জেনে-শুনেই করছে, নিজের কর্মফল সে ভোগ করবে জেনেই করছে। কাজেই তাকে উপদেশ দিতে যাওয়া অর্থহীন। বিশ বছরের আগেই একজন মানুষের কাছ থেকে অনেক দায়িত্বশীলতা আশা করা হয় -এই কথাটা বুঝিয়ে বলতেই এত প্যাঁচাল পাড়লাম।

এর সাথে তুলনা করেন আমাদের দেশে সতেরো-আঠারো থেকে প্রায় পঁচিশ-ছাব্বিশ বছর পর্যন্ত একজন মানুষের জীবন। বাবা-মায়ের উপর আর্থিক এবং সামাজিক দিক থেকে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। আমাদের তরুণেরাও কিন্তু নিজেদের দায়িত্ব নিতে সক্ষম। কিন্তু তাদেরকে দায়িত্ব নেওয়ার পরিবেশই তো দিচ্ছে না আমাদের সমাজ। জোর করে “ছোট বাবু” বানিয়ে রেখে দিচ্ছে প্রাপ্ত বয়স্ক তরুণ-তরুণীদেরকে। দায়িত্বশীলতা যেহেতু শেখানো হয় না, তাই তারা দায়িত্বহীনতাটাই শিখে। নিজেরা নিজেদের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে না, নানারকমভাবে মূল্যবান সময় অপচয় হতে থাকে। যে কোন অজুহাতে “আন্দোলন” করে পরীক্ষা পেছানো হয়। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আর শিক্ষাদানে। সেই সাথে নিম্ন মানের শিক্ষক, শিক্ষা পদ্ধতি এবং পাঠ্যক্রম তো আছেই। এসব মিলে লেখাপড়ায় ভালো না করতে পারার জন্য খুব উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মজার ব্যপার হলো, শিক্ষার্থীরা যেহেতু এর চেয়ে ভালো কিছু এখনও দেখার সুযোগ পায়নি, তারা এটাকেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়।

এই শিক্ষার্থীরাই একদিন কোনোভাবে দেশে লেখাপড়া শেষ করে বিদেশে যায় স্নাতকোত্তর পর্যায়ে লেখাপড়া করতে। সেখানে গিয়ে একটা ধাক্কা খায়। যেসব সমাজে ব্যক্তির কাছ থেকে দায়িত্বশীলতা এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য আশা করা হয়, স্বাভাবিক ভাবেই সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যপ্রণালি, শিক্ষাদানের সংস্কৃতি ইত্যাদির মধ্যেও তার প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তো শিক্ষার্থীদেরকে পুরোদস্তুর প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ হিসেবেই মনে করা হয়। তোমার ঘর ভাড়া, রান্না, কাপড় ধোয়া, প্রেম, বন্ধুত্ব, রোগ, শোক, আনন্দ, বিনোদন, কাজ, বিশ্রাম সবই তোমার দায়িত্ব। ও! আর লেখাপড়াও তোমারই দায়িত্ব। কারণ যথেষ্ট ভালো করে লেখাপড়া না করলে বৃত্তি বা ভর্তি বাতিল হতে পারে, পরের সেমিস্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ পাওয়া দুষ্কর হতে পারে, খুব কপাল খারাপ হলে ভিসাও বাতিল হতে পারে। দেশ থেকে আসা “ছোট বাবু” তখন পরিপার্শ্বের প্রভাবে চটপট “বড় হয়ে” নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। দায়িত্বশীল মানুষ নিজের কাজ ভালো করাটাই স্বাভাবিক। তাই দেশ থেকে আসা বড় হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের অনেক খবর শোনা যায়।

যারা বিদেশে এসে এই “বড় হওয়া”টা করতে পারে সাধারণত তারাই পরে ভালো ফলাফল করে। অনেকেই কিন্তু এই ট্রান্সফর্মেশন বা রূপান্তরটা করতে পারে না। বিভিন্ন অজুহাতে কেউ দেশে ফিরে যায়। কেউ কোনোরকম পাস করে মাটি কামড়ে পড়ে থাকে, শুধু “বিদেশে বসবাস” করার স্বপ্ন পূরণ করতে। যত সংবাদ শোনা যায় দেশি শিক্ষার্থী বিদেশে গিয়ে লেখাপড়ায় ভালো করার, তার সবই ওই বড় হয়ে যাওয়া ছেলে-মেয়েদের কাজ। বাকিরাও কেউ কেউ বড় হয়, একটু ধীর গতিতে। যারা একেবারেই বড় হতে পারে না, তারা পিছে পড়ে যায়।

জীবনের তিক্ত সত্যগুলি সবার জেনে রাখা উচিত?

  • দিন শেষে আসলে আপনার কতটা আর্থিক শক্তি আছে, তাই আপনার সাফল্য নির্ধারণ করে। ব্যক্তি জীবনে আপনি হয়তো অর্থের কাঙাল নন, কিন্তু অর্থবিত্ত সমাজ ও চারপাশের মাধ্যমের মধ্যে আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করে।
  • আর্থিক স্বাধীনতা ও স্বচ্ছলতা থাকলে চিন্তা শক্তির গতিবিধিই বদলে যায়। যখন অর্থের সংকটে পড়েন, তখন যেভাবে ভাবেন; যখন অর্থের জোর থাকে তখন দুনিয়ার রঙটাই বদলে যায়।
  • দিন শেষে কেউ আপনার জন্য নয়। আজকে আপনি কোন গ্রুপ থেকে চলে আসলে কিংবা চাকরি ছেড়ে দিলে কাল সেখানে নতুন কেউ যোগ দেবে। নিজেকে কখনই গুরুত্বপূর্ণ ভাবার কিছু নাই। ব্যাপারটাকে এভাবে দেখতে পারেন-আপনি একটি পানিপূর্ণ বালতিতে হাত চুবিয়ে রাখার পরে হাতটি তুলে আনলে পানিতে আলোড়ন তৈরি হয়। কিছুক্ষণ পরে তা আবার স্তিমিত হয়ে যায়, আপনি কর্মক্ষেত্রে কিংবা বন্ধু মহল থেকে চলে আসলে পানি স্তিমিত হয়ে যাবে।
  • দিন শেষে শারিরীক স্বাস্থ্য ও মনের জোরই সুপার পাওয়ার। আপনার যদি শারিরীক সুস্থতা ও ইতিবাচক মন না থাকে তাহলে কখনই তৃপ্তি পাবেন না জীবনে।
  • দিন শেষে সবাই ভিন্ন ভিন্ন গল্পের নায়ক। আপনার সহধর্মীনি থেকে শুরু করে আপনার সন্তান ও বন্ধুবান্ধবদের গল্পটা আসলেই কিন্তু ভিন্ন।
  • আপনি যদি শাসন করতে চান, তাহলে শাসন করতে পারেন। আপনি যদি চারপাশ নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাহলে আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। মনে রাখা দরকার যে, আমরা বলি দিনটা খারাপ বা সময়টা খারাপ যাচ্ছে-আসলে কি তাই? দিনতো দিনের মতই আছে, আপনার মনটাই যে খারাপ সেদিকে খেয়াল রাখুন।
  • এবং দিন শেষে ফেসবুক বা মুঠোফোন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে, নাকি আপনি মুঠোফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞান শিক্ষার্থীর পর্যায় সারণির কতটুকু মুখস্থ রাখা উচিত?

একজন বিজ্ঞান(রসায়ন) শিক্ষার্থীর প্রথম করনীয় যেটি হল পর্যায়সারণী কি এবং কিভাবে আবিষ্কৃত মৌলগুলিকে সাজানো হয়েছে তা পরিষ্কার ধারণা থাকা বাঞ্চনীয়।

যদি সময় থাকে তবে প্রতিদিন একটি করে শ্রেণী ধরে তার মধ্যে অবস্থিত প্রত্যেক মৌলকে যথাযথ ময়নাতদন্ত করলে মুখস্ত করার চাপ নিতে হবেনা অর্থাৎ উদাহারণ স্বরূপ ধরা যাক আপনি প্রথমদিন শ্রেণী১ কে নির্বাচন করলেন । শ্রেণী ১ এ কি কি মৌল থাকে? তাদের ইলেক্ট্রন বিন্যাস কেমন?-

হইড্রোজেন(H): ইলেক্ট্রন এর বিন্যাস- 1s(1)

লিথিয়াম(Li): ইলেক্ট্রন এর বিন্যাস- 1s(2) 2s(1)

সোডিয়াম(Na):ইলেক্ট্রন এর বিন্যাস- 1s(2) 2s(2) 2p(6) 3s(1),ইত্যাদি

এইভাবে আগে 3 সপ্তাহ ধরে অভ্যাস করুন। আপনাকে আর কষ্ট করে কবিতা মুখস্ত করার মত মুখস্ত করতে হবেনা। অনায়াসে যখন চাইবেন তখনই চোখের সামনে ছবির মত ভেসে উঠবে।

এর পর আসি মুলপ্রশ্নে, কতটা মনে রাখা উচিত? এটা নির্ভর করছে আপনি বিদ্যালয়ের ছাত্র নাকি মহাবিদ্যালয় এর ছাত্র।

যদি বিদ্যালয়ের ছাত্র হন তবে আপনি পর্যায় অনুসারে প্রথম কুড়ি থেকে ত্রিশটি টি মৌল সম্পর্কে অবগত থাকলেই হয়ে যায়।

আর আপনি যদি মহাবিদ্যালয় বা ১০+২ বা ১০+২+৩ এর ছাত্র হন তবে আপনাকে আগের পদ্ধতি অবলম্বন করে চেষ্টা করতে হবে অন্তত f-ব্লক মৌল ছাড়া বাকি সব মনে থাকে। বিশেষত d-ব্লক মৌল গুলি, নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলি, হ্যালোজেন ও চ্যালকোজেন মৌল গুলি বিশেষ ভাবে মনে রাখা।

মহাবিজ্ঞান এ থাকাকালীন সমগ্র টি গড় গড় করে বলতে পারতাম তবে এখন চর্চার অভাবে বেশিরভাগ f-ব্লক মৌল গুলি গুলিয়ে ফেলি। আপনি উপরিক্ত উপায় অবলম্বন এর পরামর্শ দেবো অথবা আপনি আপনার মত করে উপায় উদ্ভাবন করতে পারেন।

চলতি মাসেই আরো একটি স্প্যান বসতে যাচ্ছে, দৈর্ঘ্য আরও বাড়ছে পদ্মা

মাত্র ১৩ দিনের ব্যবধানে আরও দৈর্ঘ্য বাড়তে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর। আগামী ২৩ এপ্রিল জাজিরা প্রান্তে আরেকটি স্প্যান বসানো হতে পারে।

১১তম স্প্যানটি ৩৩ ও ৩৪ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হবে। স্প্যানটি বসানো হলে পদ্মা সেতুর ১ হাজার ৬৫০ মিটার অংশ দৃশ্যমান হবে। পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ২২ এপ্রিল ভাসমান ক্রেন দিয়ে জাজিরার দিকে স্প্যানটি নেওয়ার কাজ শুরু হবে। পরদিন ২৩ এপ্রিল আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে স্প্যানটি বসানো হবে।

সবশেষ ১০ এপ্রিল মাওয়া প্রান্তে ১৩ ও ১৪ নম্বর পিলারের ওপর দশম স্প্যানটি বসানো হয়। এই স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতু এখন ১ হাজার ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যে রূপ নিয়েছে।

এইভাবে এক এক করে এগিয়ে যাক কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য সেরা প্রস্তুতি কী হতে পারে?

প্রায় যেকোনো চাকরির ক্ষেত্রেই ইন্টারভিউ এর সময় আপনার প্রথম ইম্প্রেশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা পালন করে। আজকাল যেকোন চাকরিতেই নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া যথেষ্ট সংবেদনশীল ও সময়সাপেক্ষ। একটি ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো আপনি যে একজন পেশাদারী ব্যক্তি এবং নিজের দক্ষতা সম্পর্কে আপনার আত্মবিশ্বাস রয়েছে সেটি নিয়োগকারীর সামনে তুলে ধরা। ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় ছোট ছোট প্রত্যেকটি ব্যাপারই অনেক বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তাই আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন।

ইন্টারভিউতে পৌঁছে প্রথমেই যা বলা যেতে পারে

যেকোনো ইন্টারভিউতে পৌঁছে প্রথমেই যার সাথে দেখা হবে তাকে কীভাবে নিজের পরিচয় দেবেন সেই ব্যাপারে প্রস্তুতি নেয়া আপনার প্রথম কাজগুলোর মধ্যে একটি। রিসিপশনিস্টের খোঁজ করুন, কিংবা যিনি আপনাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন তাকে নম্রতার সাথে নামসহ আপনার আগমনের উদ্দেশ্যটি জানান।

এইচআর কিংবা ইন্টারভিউ প্যানেলের সাথে সাক্ষাৎকার পর্ব

যখন এইচআর আপনাকে অভ্যর্থনা জানাতে আসবেন, তখন চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ুন এবং সমান উৎসাহে তার সাথে হাত মেলান। হাসিমুখে আপনার নাম বলুন এবং সাক্ষাতের জন্য আনন্দ প্রকাশ করুন। আপনি যদি একটি ইন্টারভিউ প্যানেল সমৃদ্ধ রুমে প্রবেশ করেন, তাহলে প্রথমে ভেতরে ঢোকার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করুন, হাসিমুখে নিজের পরিচয় দিন এবং সবাইকে একই সাথে অভিবাদন জানান।

পরিচয় পর্বটি সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ করার চেষ্টা করুন

প্রথম পরিচয়টা সংক্ষিপ্ত ও আন্তরিক রাখার চেষ্টা করুন। আপনাকে প্রথম যে প্রশ্নটি করা হবে তা হতে পারে “আপনার ব্যাপারে আমাদের কিছু বলুন।” এই প্রশ্নের জবাবে আপনার আবেদন করা পদটির জন্য আপনার দক্ষতাগুলোকে লক্ষনীয় করে তোলার এবং পাশাপাশি আপনার ব্যক্তিত্বকে নম্রতার সাথে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করুন। আপনার আবেদন করা পদটির সাথে আপনার দক্ষতা কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার সমন্বয় সাধন করুন এবং কীভাবে আপনি এই পদে তাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য উপযুক্ত তা প্রকাশ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।

আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার দিকে ফোকাস করুন

আপনি যদি একজন সদ্য গ্র্যাজুয়েট হন তাহলে অবশ্যই আপনাকে আপনার যোগ্যতা ও কোয়ালিফিকেশনের দিকে বিশেষভাবে ফোকাস করতে হবে। আর তা না হলে যে ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করার যে অভিজ্ঞতা আপনার রয়েছে সেগুলোর দিকে ফোকাস করুন। এসবের মধ্যে কিছু অপেশাদারী তথ্য যেমন আপনার শখ ও কৌতুহল ইত্যাদি দিকগুলোও অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

ফলো-আপ প্রশ্নের জন্য প্রস্তুতি নিন

ইন্টারভিউ এর সময় আপনি নিয়োগকারীদের আপনার ব্যাপারে যেসব তথ্য দিচ্ছেন সেগুলো মনে রাখা খুবই জরুরি এবং তার থেকে যে সব ফলো-আপ প্রশ্ন তারা করতে পারেন সে ব্যাপারেও প্রস্তুতি নিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আরো গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যখন আপনি নানা রকম প্রজেক্ট, টেকনিক্যাল দক্ষতার সাথে আপনার সংশ্লিষ্ট থাকার কথা শেয়ার করবেন, তখন সে ব্যাপারেও ফলো-আপ প্রশ্নে কী রকম জবাব দেবেন সে ব্যাপারেও প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। নিজে থেকে কিছু প্রশ্ন করুন, এতে করে চাকরিটির ব্যাপারে আপনার আগ্রহ প্রকাশ পাবে।

উত্তম ব্যবহার সব সময়ই কার্যকরী ও আকাঙ্ক্ষিত

আপনার শারীরিক ভঙ্গিমা, কথা বলার ধরণ, পোশাক আশাক ইত্যাদি সব আচরণবিধি আপনার ইন্টারভিউয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এই জিনিসগুলোর প্রতি আগে থেকেই যত্নবান হোন। আত্মসম্মানের ব্যাপারে কোন রকম আপোষ করবেন না, কিন্তু পাশাপাশি পেশাদারী এবং উত্তম ব্যবহার বজায় রাখার চেষ্টা করুন। হাসিমুখে আপনার ইন্টারভিউটি শেষ করুন এবং এই দারুণ সুযোগটির জন্য তাদের ধন্যবাদ দিন!

ইন্টারভিউয়ের নানা ধাপ সহ নিয়োগদানের পদ্ধতিতে অনেক গুলো পদক্ষেপ রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে ইন্টারভিউ প্রার্থীদের উচিত বিভিন্ন রকম ইন্টারভিউ টিপস চর্চা করার মাধ্যমে নিজেদেরকে এই চ্যালেঞ্জটির জন্য প্রস্তুত করে নেয়া। অতএব, মাথা ঠাণ্ডা রাখুন আর আত্মবিশ্বাসী হোন!

দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করার মতন ভাল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনগুলো !

বর্তমানে ইন্টারনেটের নতুন ট্রেন্ড হলো মিনিমালিস্টিক ডিজাইন।

এই ডিজাইনের এপ্লিকেশনে ইন্টারফেস হয় সাধারণ, বোধগম্য সব বয়সের লোকের জন্য, বেশি হিজিবিজি নয়, বিজ্ঞাপনগুলো সীমিত এবং বিরক্তিকর নয়। এই ধরণের এপ্লিকেশনে মাথায় ফালতু চাপ কম পরে। তাই এরকম এপ্লিকেশন আমি বেশি পছন্দ করি। আমার দৈনন্দিন জীবনের ব্যাবহার করা অ্যাপ হলো,

  • এডোবি রিডার
  • আমাজন প্রাইম ভিডিও
  • আমাজন কিন্ডল
  • ব্রেইন ফোকাস
  • ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং
  • ফাইন্ড ডিভাইস
  • ফ্লাড
  • গুগল ফিট
  • গুগল পে
  • কিপ নোটস
  • কিপ যোগা
  • নাইকি রানিং+
  • পিন্টারেস্ট
  • প্রাণা ব্রিদ
  • রেট্রো মিউজিক প্লেয়ার
  • ঠান্ডার ভিপিএন
  • ইয়ার ইন পিক্সেল

সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য আমি অনুরোধ করবো কোনো এপ্লিকেশন ব্যাবহার না করতে, যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার, কোরা (হ্যা কোরাও) ইত্যাদি। ক্রোম ব্রাউজার ব্যাবহার করুন। প্রথমে অসুবিধে হবে কিন্তু পরবর্তীতে দেখবেন কম সময় নষ্ট করছেন।আর একমাত্র আমাজন প্রাইমের বেলায় আমার মনে হয়েছে আমার টাকা যথোপযুক্ত খরচ হয়েছে, সম্পুর্নরূপে কোনো বাজে খরচ নয়।

আরো অনেক আছে, কিন্তু এগুলো সচরাচর আমি কাউকে ব্যবহার করতে দেখিনা কিন্তু আমি নিজে অনেক উপকার পেয়েছি।