স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে রুট (Root) করা কি জিনিস?

রুট কথাটা সাধারণত এন্ড্রয়েড এর সাথে জড়িত। iOS এ একে জেল-ব্রেক বলা হয়ে থাকে। দেখতে গেলে দুটি মূলত একই জিনিস। এন্ড্রয়েড যদিও বা, iPhone এর মতন জেলে বসবাস করে না, তবুও, রুটিং আপনাকে সেটুকু থেকেও মুক্ত হতে সাহায্য করতে পারে।

রুট করা মানে কি জানতে হলে, প্রথমে আমরা জেনে নেব রুটের অস্তিত্বের কারণ আর এটি ঠিক কিভাবে কাজ করে। কারণ এন্ড্রয়েড হলো একটি অনুমতি-ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম – ঠিক লিনাক্স-এর মতন, সঠিকভাবে বলতে গেলে। এন্ড্রয়েডের প্রতিটা ফাইল, প্রতিটা ফোল্ডার, প্রতিটা পার্টিশন-এর নিজস্ব এক গুচ্ছ পারমিশন (বা, অনুমতি) আছে। এবং এই অনুমতিগুলোই ঠিক করে, কে একটি ফাইল পড়তে পারবে, কে একটি ফাইলে পরিবর্তন করতে পারবে এবং কে একটি ফাইল চালাতে ( বা, রান করতে) পারবে। এই জিনিসটি করা হয় ব্যবহারকারীর কাছে অনুমতি কি কি আছে, তার ওপর ভিত্তি করে।

আপনি যখন আপনার ফোনটি চালু করে প্রথমবার প্রোফাইল বানাচ্ছেন, আপনাকে এন্ড্রয়েড দেয় একটি অনন্য UserID। সেরকম এ প্রত্যেকটা এপ্লিকেশন যখন ইনস্টল হয়, তখন প্রত্যেকটি একটি করে অনন্য UserID পেয়ে যায়। এই UserID র ওপর ভিত্তি করেই এন্ড্রয়েড ঠিক করে কার কতটা অনুমতি প্রাপ্য। এক্ষেত্রে আপনার userID টিকেই সবচাইতে বেশি অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু ভেবে বসবেন না, আপনার মাথার ওপর কেউ নেই। আপনার মাথার ওপর রয়েছেন SuperUser বা SU যেটিকে “/” ভাবেও লেখা হয়ে থাকে। SuperUser সবার মাথা, সে সব করতে পারে – এমন এমন জিনিস যেগুলো মোবাইল নির্মাতারা আপনার থেকে লুকিয়ে রেখেছে সেগুলোও সে দেখতে পারে। লুকিয়ে রাখার অবশ্য কারণ ও আছে। একটু ভুল চুক হলেই, মুহূর্তের মধ্যে আপনার ফোন অকেজো হয়ে যেতে পারে। তবে বুঝে শুনে ব্যবহার করতে পারলে, সেই মুক্তির তুলনা হয়না।

এই SuperUser টিকে সযত্নে লুকিয়ে রাখে নির্মাতারা। রুটিং হলো জোর করে আপনার সাধারণ UserID টি বদলে, আপনাকেই SuperUser বানানো। আপনিই তখন আপনার ফোনের সর্বেসর্বা।

এবার আসা যাক সুবিধা গুলোতে –

  • সব চাইতে প্রথম, আপনার ফোন থেকে অযথা বাজে appগুলো, যাকে Bloatware বলা হয় এবং যেগুলি মোছা অবধি যায় না, সেগুলো মুছে ফেলতে পারবেন সহজেই।
  • নিজের মতন করে আপনি আপনার ফোনটিকে customize করতে পারেন, যা সাধারণত রুট করার আগে সম্ভব হতো না।
  • রুট সংক্রান্ত অনেক এমন app আপনি হাতে পেয়ে যাবেন, যেগুলো আপনার কাছে এমন সব সুবিধা নিয়ে আসবে, যা সাধারণত কোনোদিন আপনি পেতেন না।
  • আপনি জেমন আপনার system নিজের ইচ্ছে মতন update করতে পারবেন, আবার পুরো system টা মুছে ফেলে, সম্পূর্ণ নতুন কোনো অপারেটিং সিস্টেম লাগিয়ে ফেলতে পারেন আপনি আপনার ফোনে। এইগুলি কেই বলা হয় কাস্টম ROM। আপনার ফোনের সাথে আসা সিস্টেম কে বলা হয় Stock ROM।

এবার কিছু ভয়ঙ্কর রকমের অসুবিধা গুলি দেখা যাক:

  • রুট করা মানে, প্রায় সব ফোনেরই Warrenty ওখানেই শেষ। নির্মাতা আর আপনার ফোন ছুঁয়েও দেখবে না।
  • রুট করা মানে আপনার ফোনে যে নিজেথেকে Update গুলি আসতো, তা আর আসবে না। আপনার ফোনের দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনার। security patch থেকে system update সব আপনাকে নিজে হাতে করতে হবে। SuperUser হয়েছেন, এইটুকু কাজ তো করতেই হবে।
  • রুট করার পর ভুল ভাল কিছু করে ফেললেই ফোনটি যাবে অকেজো হয়ে, অথবা এমন কিছু কান্ড হবে, যার দরুন আপনার ফোনটিকে ব্যবহার করা অসাধ্য হয়ে যাবে। তখন আবার আপনাকে সব কেঁচে গন্দুস করে, নতুন করে সিস্টেম লাগিয়ে শুরু করতে হবে।

রুটিং নিয়ে অনেক কথাই চলে আসে আলোচনার মধ্যে। তবে একটা কথা বলা যায়। আজকাল এন্ড্রয়েড এতটাই উন্নত হয়ে গিয়েছে, যা রুটিং না করলেও আরাম করে ব্যবহার করা যায়। রুটিং করতেই হলে, এমন কোনো ফোনে করুন, যেটি আপনার প্রাথমিক ফোন নয়।

Livereportbd

Latest growing bangla news portal titled Livereportbd offers to know Sports, Entertainment, Education, Lifestyle, National, World, etc.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *