অল্পবয়সে কী কী ভুল করা উচিত নয়?

‘অল্প বয়সে ভুল’ বোঝাতে সবার শুরুতেই যে ধরনের ভুলের ধারণা সবার চিন্তায় আসে তা হল সম্পর্কস্থাপনজনিত ভুল। কিন্তু এছাড়াও ভুলগুলোকে আরো কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে।
প্রথমত, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কখনও একা একা কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে অভিজ্ঞতা আর জ্ঞান বা যেকোন একটির অভাব থাকে বলে এখানে পরিপূর্ণ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তাছাড়া, মা বাবার প্রতি উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের অনেক অবজ্ঞা আর অবহেলার চিত্র দেখা যায়। অথচ, ম্যাচিউরিটি আসবার পর বেশিরভাগ মানুষেরই অনুধাবন হয় মা বাবাই ঠিক বলতেন। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে।
বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমি এর চরম ভুক্তভোগী। কেননা, ভদ্র বেশে অনেক নিচু মানসিকতার মানুষ আমাদের সমাজে অনেক আছে। বন্ধু নির্বাচন ও অসৎ বন্ধুদের পরিত্যাগ করতেই হবে।
ছেলেমেয়ে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারটি সেন্সিটিভ। এক্ষেত্রে আমি ধর্মীয় আবহে কিছু কথা বলব। প্রকৃতপক্ষে ইসলাম ধর্মে ছেলে-মেয়ে বিবাহ বহির্ভূত অন্য কোনোরূপ সম্পর্ক স্থাপন করা নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র, মাহরামদের (যেমনঃ মা, খালা, বোন… যাদের সাথে বিবাহের সম্পর্ক হারাম বা নিষিদ্ধ) সাথেই কোন ছেলের কথা বলার অনুমতি আছে। এছাড়া বাকি যারা, গাইরে মাহরাম, তাদের সাথে প্রয়োজনীয় কোন কাজ বা কথা ছাড়া অপ্রয়োজনীয় কথা বলা অনুচিত। এজন্য, মুসলিমদের বিবাহ বহির্ভূত প্রেম বা ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপন করলে তার জন্য তার গুনাহ(পাপ) হবে। হিন্দু বা খ্রিষ্টান ধর্মের উপর আমার জ্ঞান খুব স্বল্প, তবে বিশ্বখ্যাত কয়েকজন বক্তার কাছে শুনেছি অন্যান্য ধর্ম গুলোতেও এ ব্যাপারে সতর্কতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নাস্তিক ও মুক্তমনাদের জন্য তাদের নিজ নিজ ইচ্ছেকেই তারা মেনে নিবেন, সে ব্যাপারে তো কোন সংবিধান নেই। প্রেম ভালোবাসার মত স্পর্শকাতর বিষয়টিতে সাবধানতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।
পড়ালেখা ও বিশুদ্ধ জ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ থাকতে হবে। প্রচুর বই [এখানে কিন্তু পাঠ্যবইয়ের কথা বলা হচ্ছে না, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়তে হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা অর্জনের চেষ্টা থাকতে হবে।]
সময়ের অপচয় না করে কিভাবে কাজে লাগানো যায় এই ক্ষেত্রটি নিয়েও অভ্যাস করা জরূরী। বয়সন্ধীকালীন যাবতীয় সমস্যা জানার ও সমাধানের জন্য ডাক্তার বা ভাল সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিলে ভাল হয় (যদি প্রয়োজন হয় তবেই)।